জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বর্বরতায় নিহত দরজি বিশ্বজিৎ দাস-এর হত্যা দিবস স্মরণে মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা জানেন ৯ ডিসেম্বর, এক তরুণ শ্রমজীবী নাগরিক বিশ্বজিৎ দাস এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিবহ দিন। ২০১২ সালের এই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বর্বরতায় একজন নিরীহ নাগরিককে ভুল পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনা বাংলাদেশের বিবেককে আহত করেছে এবং মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশ্বজিরে মৃত্যু শুধু একজন মানুষের প্রাণহানি নয়; এটি ছিল মানবতা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বর্বর আঘাত। আজকের এ দিনে আমি বিশ্বজিৎকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং ফ্যাসিবাদের পতনে তার আত্মত্যাগকে গভীরভাবে অনুধাবন করছি। আমি বিশ্বাস করি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ, সংগঠন বা ক্ষমতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যার ন্যূনতম বৈধতা কারো নেই ।
আমি আরো বিশ্বাস করি, সহিংসতা কখনো ন্যায় এনে দিতে পারে না, রাজনীতি কখনো মানবজীবনের ঊর্ধ্বে নয়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশ্বজিৎকে হারিয়ে আমরা একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি: সহিংসতার রাজনীতি জাতিকে কখনো সমৃদ্ধ করে না, বরং অন্ধকারে নিমজ্জিত করে।
আজকের এই দিনে আমরা অঙ্গীকার করি
মানবিকতা, শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আমরা আরও দৃঢ় হবো। যারা সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমাজকে আতঙ্কগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা আরেকজন বিশ্বজিৎ হারাতে চাই না, হারাতে পারি না।
বিশ্বজিৎ হত্যার দৃশ্যচিত্র আজও দেশের মানুষকে কাঁদায়, এবং আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের জন্য মারাত্মক হুমকি।
আমি গভীর শোকের সঙ্গে স্মরণ করছি, নিহত বিশ্বজিৎ দাসকে, তাঁর শোকাহত পরিবারকে এবং ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রামরত সকল মানবাধিকারকর্মীকে।
স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি
১. ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হলেও সাজাপ্রাপ্তদের দণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো বিলম্ব বা শিথিলতা না ঘটে; এটি রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দৃঢ় আহ্বান।
২. রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ছাত্র সংগঠনের সহিংসতা কঠোরভাবে নির্মূল করতে হবে। উচ্চDeltin 7 অনলাইন স্লট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় সন্ত্রাসমুক্ত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্বই নয় আমাদের সকলকেও এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে।
৩. নিরীহ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্বজিৎ দাসের মতো নিরীহ মানুষ যেন কখনো আর রাজনৈতিক সংঘর্ষের বলি না হয় তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার, নিরপেক্ষ ও মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
৪. বিশ্বজিৎ-এর স্মৃতি সংরক্ষণে স্থায়ী উদ্যোগ প্রয়োজন। ইতিমধ্যে এ মর্মে টোকেন একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
পরিশেষে আমি আবারো বিশ্বজিৎ দাসের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং ন্যায়ভিত্তিক শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বজিৎ বেচে থাকুক আমাদের স্মৃতিতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবিচল অবস্থানে।’ ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন Deltin 7 অ্যাপের শিক্ষক, Deltin 7 অনলাইন স্লটর্থী, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বিশ্বজিৎ দাস-এর হত্যা দিবস স্মরণে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন-এর নেতৃত্বে ‘বিশ্বজিৎ চত্বরে’ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন Deltin 7 অ্যাপের শিক্ষক, Deltin 7 অনলাইন স্লটর্থী, ছাত্র সংগঠন নেতৃবৃন্দসহ আরো অনেকে।


