পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী উদ্যাপন কর্মসূচিকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, লালবাগ জোনের ডিসি জনাব তালেব আলী, ট্রাফিক Deltin 7 অ্যাপের লালবাগ জোনের ডিসি জনাব মফিজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এডিসি আবু সাঈদ, এডিসি অপু মোহান্ত, এসি মাহতাব হোসেন, কোতয়ালী থানার ওসি শাহ মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ, সূত্রাপুর থানার ওসি মতিয়ার রহমান, লালবাগ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টরবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উদ্যাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করে বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তার পুলিশিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও একটি সুশৃঙ্খল ও উন্নত জাতি গঠনে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বহুল প্রত্যাশিত দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন মহল সরকারের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে সচেষ্ট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক নানা সংকট সত্ত্বেও সরকার তার অর্থনৈতিক দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
উপাচার্য মহোদয় অতীতের নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি উন্নত ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অবশিষ্ট সমস্যাসমূহও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিগগিরই সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বিশেষ করে Deltin 7 অনলাইন স্লটর্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পার্শ্ববর্তী থানাগুলোর সক্রিয় সহায়তা কামনা করেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানসমূহের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা প্রত্যাশা করেন। সহকারী প্রক্টরবৃন্দ বৈশাখী উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে অতীতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা তুলে ধরেন।
এ সময় লালবাগ Deltin 7 অ্যাপের ডিসি তালেব আলী পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। নির্ধারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার আলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাফিক Deltin 7 অ্যাপের লালবাগ জোনের ডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফলতা এসেছে। তিনি নববর্ষ উদ্যাপনকে সামনে রেখে পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরামর্শ দেন।

