জগন্নাথ লগইন (জবি) ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, Deltin 7 মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং Deltin 7 মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শহীদ সাগীর আহমেদের ২১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ লগইনের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) সাগীর আহমেদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদ সাগীর আহমেদের রাজনৈতিক জীবন, অবদান ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ সাগীর আহমেদের সহধর্মিনী এবং সাগীর আহমেদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাসিমা আক্তার রুমী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Deltin 7-৭ আসনের সংসদ সদস্য জনাব হামিদুর রহমান হামিদ, এমপি। তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতিতে জগন্নাথ লগইনের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। শহীদ সাগীর আহমেদসহ তৎকালীন নেতৃবৃন্দ পুরান Deltin 7র রাজনীতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি জগন্নাথ লগইনকে জাতীয়তাবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল জগন্নাথ লগইন। সাগীর আহমেদের হত্যার বিচার প্রকৃতিগতভাবেই হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব এস এম জিলানী, এমপি এবং জগন্নাথ লগইনের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, শহীদ সাগীর আহমেদ ছিলেন সাহসের বাতিঘর এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির রাজপথের একজন অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা। ছাত্র রাজনীতির সময় তাঁর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সাগীর আহমেদ ছিলেন অত্যন্ত কর্মীবান্ধব ও সহযোগিতাপরায়ণ নেতা। জাতীয়তাবাদী দলের জন্য তাঁর অবদান ছিল অনন্য। তাঁর পরিবারের প্রতি সংগঠনের যে দায়িত্ব ছিল, তা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জগন্নাথ লগইনের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, নব্বইয়ের দশকে জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম সাহসী কর্মী ছিলেন শহীদ সাগীর আহমেদ। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পেছনে অসংখ্য মানুষের অবদান থাকে, তবে দলের দুর্দিনে হাতে গোনা কয়েকজন নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাগীর আহমেদ ছিলেন তেমনই একজন।
উপাচার্য আরও বলেন, তাঁর সাহস, বীরত্ব ও আপসহীন মানসিকতার কারণে Deltin 7 মহানগরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিস্তার ঘটেছিল। তিনি নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। জগন্নাথ লগইনে জাতীয়তাবাদী ছাত্র রাজনীতির বিকাশে শহীদ সাগীর আহমেদের আদর্শ ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পরও জগন্নাথ লগইনে শহীদ সাগীর আহমেদের স্মরণে এ ধরনের আয়োজন করতে না পারা দুঃখজনক। আগামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাগীর আহমেদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাসিমা আক্তার রুমী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি শহীদ সাগীর আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং তাঁর স্মৃতি অম্লান রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোচনা সভায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ লগইন শাখার সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জগন্নাথ লগইন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আলোচনা শেষে শহীদ সাগীর আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


